
আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ কখন, কোথায় ও কতক্ষণ থাকবে এবং দর্শন শুভ-অশুভ জেনে নিন
গ্রহণের সময়কাল
গ্রহণ সময় ভারতঃ
-
গ্রহণ স্পর্শ (শুরু): দুপুর ৩টা ২০ মিনিট।
-
পূর্ণগ্রাস শুরু (নিমীলন): বিকেল ৫টা ০৪ মিনিট।
-
গ্রহণের মধ্যভাগ: বিকেল ৪ টা ৩৪ মিনিট।
-
পূর্ণগ্রাস শেষ (উন্মীলন): সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিট।
-
গ্রহণ মোক্ষ (শেষ): রাত ৬ টা ৪৮ মিনিট।
-
পূর্ণগ্রাস স্থিতি: ৫৯ মিনিট।
-
গ্রহণের মোট স্থিতি: ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট।
-
গ্রাসমান: ১.১৫৫।
-
উপচ্ছায়া স্পর্শ (প্রবেশ): দুপুর ২টা ১৩ মিনিট।
-
উপচ্ছায়া মোক্ষ (ত্যাগ): রাত ৭ টা ৫৫ মিনিট।

গ্রহণ সময় বাংলাদেশঃ
-
গ্রহণ স্পর্শ (শুরু): দুপুর ৩টা ৫০ মিনিট।
-
পূর্ণগ্রাস শুরু (নিমীলন): বিকেল ৫টা ০৪ মিনিট।
-
গ্রহণের মধ্যভাগ: বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিট।
-
পূর্ণগ্রাস শেষ (উন্মীলন): সন্ধ্যা ৬টা ০৩ মিনিট।
-
গ্রহণ মোক্ষ (শেষ): রাত ৭টা ১৮ মিনিট।
-
পূর্ণগ্রাস স্থিতি: ৫৯ মিনিট।
-
গ্রহণের মোট স্থিতি: ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট।
-
গ্রাসমান: ১.১৫৫।
-
উপচ্ছায়া স্পর্শ (প্রবেশ): দুপুর ২টা ৪৩ মিনিট।
-
উপচ্ছায়া মোক্ষ (ত্যাগ): রাত ৮টা ২৫ মিনিট।

কোথায় দেখা যাবে এই গ্রহণ?
বাংলাদেশ ও ভারতে এইগ্রহণ দৃশ্য”
ঢাকায় গ্রস্তোদয় দেখা যাবে।
কিভাবে দেখবেন?
চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং খালি চোখে দেখা যায়। তবে টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলারের সাহায্যে দেখলে চাঁদের সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে উপভোগ করা সম্ভব। পরিষ্কার আকাশ থাকলে ভারত ও বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকেই এই বিরল দৃশ্য চাক্ষুষ করা যাবে। শহর থেকে দূরে, কম দূষণযুক্ত এলাকা থেকে গ্রহণ আরও স্পষ্ট দেখা যাবে।
এই গ্রহণ শুধুমাত্র একটি মহাজাগতিক ঘটনাই নয়, জ্যোতিষশাস্ত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই আধ্যাত্মিক এবং বৈজ্ঞানিক, উভয় দিক থেকেই এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সুতরাং, তৈরি থাকুন এই মহাজাগতিক বিস্ময়ের সাক্ষী থাকার জন্য।
যে সকল স্থানে গ্রহণ দৃশ্য হবে সে সকল স্থানে পাকপাত্র পরিত্যাগ করা বিধেয় আর যেসব স্থানে দেখা যাবে না সেখানে স্নানদানাদি ও পাকপত্র পরিত্যাগের বিধি নিষেধ নাই।
গ্রহণ দেখায় শুভাশুভ: এই গ্রহণ মেষ, মিথুন, কর্কট, তুলা ও মীন রাশির জাতকদের দেখার জন্য শুভ। এই রাশিগুলোর হলেও, জন্মতারার কারণে ভরণী নক্ষত্র যুক্ত মেষ রাশির জাতকদের এই গ্রহণ দেখা নিষেধ। এগুলো ছাড়া অন্য রাশির জাতকদের জন্য এই গ্রহণ দেখা অশুভ। দৈবক্রমে বা ভুলবশত দেখে ফেললে ব্রাহ্মণকে স্বর্ণদান করা উচিত।
যারা তন্ত্রোক্ত মন্ত্র জপ করেন, তাদের জন্য এই রাশ্যাদি বিচার করার কোনো প্রয়োজন নেই। যারা শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে গ্রহণ দেখবেন, তাদের সবারই গ্রহণস্নান করা অবশ্যই কর্তব্য। এর প্রমাণ হলো— “সংক্রমে গ্রহণে চৈব ন স্নায়াদ যস্তু মানবঃ। সপ্তজন্ম স্বসৌ কুষ্ঠী দুঃখভাগী চ সর্ব্বদা ॥” (অর্থাৎ, যে মানুষ সংক্রান্তি ও গ্রহণে স্নান করে না, সে সাত জন্ম কুষ্ঠরোগী ও সর্বদা দুঃখভোগী হয়।)
নিয়ম মেনে গ্রহণ দেখলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। যে মৃতপিতৃক (যার বাবা মারা গেছেন) ব্যক্তি নিয়ম মেনে গ্রহণ দেখবেন, তাকে অবশ্যই একবার ধোয়া আসনে বসে শ্রাদ্ধ করতে হবে। জন্ম ও মরণাশৌচে শুধু স্নান করা যাবে, তবে দান ও শ্রাদ্ধ করা যাবে না। সূতকাশৌচে স্নান ও দান ইত্যাদি করা যাবে। গ্রহণের সময় দীক্ষা নেওয়া এবং শাস্ত্রপাঠ (অনধ্যায়) নিষেধ। আজ থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিশেষ কোনো যাত্রা করা নিষেধ।
গ্রহণ দেখার অন্যান্য স্থান: সাধারণত এই গ্রহণ এশিয়ার পূর্বাঞ্চলে, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরে দেখা যাবে।
-
গ্রহণের স্পর্শ (শুরু): (চন্দ্রাস্তের সময়) আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ের কিছু অঞ্চলে, বলিভিয়া, ব্রাজিল, গ্রিনল্যান্ড এবং আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর ভাগে দেখা যাবে।
-
গ্রহণের মোক্ষ (শেষ): (চন্দ্রোদয়ের সময়) রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে, কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং ভারত মহাসাগরে দেখা যাবে।
(যেসব স্থানে এই গ্রহণ দেখা যাবে, সেসব স্থানে রান্না করা খাবার বা অন্ন ফেলে দেওয়া উচিত।)
আজকের রাশিফল বিস্তারিত পড়ুন: banglarashifol.com
